আধ্যাত্মিকতা - নিজেকে চেনা, জানা, বোঝা ।
Meditation is like a Hyper Dive to the search of lightness to enlighten our Soul, Increase our Spirit, Understanding the meaning of Dedication for the Creations of our Great Lord and... to be a Friend of Almighty Creator... to use HIS Immense Power.... to feel the Infinity.
মানুশের মন - এই ব্যাপক বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মাঝে সবচাইতে অদ্ভুত, সবচাইতে শক্তিশালী, সবচাইতে নিখুত এই সৃষ্টি, যেটাকে মহামহিম স্রস্টা অনেক অনেক আদর, যত্ন, মায়া আর বৈচিত্র্য নিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তার সুপ্রিম সৃষ্টি আদমের জন্য। মানব মনের ক্ষমতা এই আসমান এবং জমিনের মাঝে সবচাইতে বেশী, এটা আমরা নিজেরাই জানি না অনেক সময়। আমাদের (আদমের) জন্য এই সমগ্র আসমান, জমিন এবং এর বাইরের, ভিতরের সব কিছুকে মহান স্রস্টা সৃষ্টি করেছেন, আমাদেরকে দিয়েছেন এগুলোকে নিয়ন্ত্রন করে আমাদের কাজে লাগানোর জ্ঞান, ক্ষমতা। আর আমাদের এই সব চাওয়া শুধুমাত্র তখনি পাওয়াতে পরিনত হয়, যখন আমরা মানসিকভাবে কোন কিছুকে সত্যিকার ভাবেই করতে বা পেতে চাই। আমাদের অতি শক্তিশালী মানব মন আমাদের চাওয়া, সপ্ন, আশা গুলোকে একটা ভার্চুয়াল ইমেজ হিসেবে আমাদের ব্রেইনে সেভ করে এবং আমাদের সব কাজ কর্মকে সেই ইমেজ বা সপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রোগ্রামিং করে, ফলে আমরা আমাদের অবচেতন মনের সেই সপ্নের প্রোগ্রাম অনুযায়ী আমাদের বাস্তব জীবনে কাজ করতে শুরু করি। আর এভাবেই রচিত হয়, হচ্ছে, হবে কাল, কালান্তরব্যাপী সভ্যতা - যার সব কিছুই মহামহিম সৃষ্টিকর্তার সুপার প্রোগ্রামিং এর আওতাভুক্ত। কাজেই আমরা নিজেরাই ঠিক করতে পারি আমাদের কাজ, সাফল্য, সপ্ন, ইচ্ছা, সাহস, বুদ্ধি, জ্ঞান, সম্পদ ... সবকিছুই ... যদি আমরা প্রথমেই আমাদের ব্রেইন এর প্রোগ্রামিং কে সঠিক ভাবে সেট করে নেই পারফেক্ট লাইনে। এজন্য দরকার মন নিয়ন্ত্রনের কৌশল জানা। জানতে হতে কিভাবে অবাধ্য, অবুঝ, আত্মবিশ্বাসহীন মন খুজে নিতে পারে নিখুত লক্ষ্য, হাটতে পারে সাফল্লের আলোকোজ্জ্বল পথে, এই পৃথিবীর সাফল্য শেষে আরেক জগতের অনন্ত মহাসাফল্লের দিকে।
আমাদের মন বা ব্রেইন বা রুহ বা আত্মা বা এগুলোর সমষ্টি এবং এর গতিপ্রকৃতিকে যখন আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি, তখন আমাদের চেতনা প্রশান্ত চিত্তে মহাচেতনার সাথে লিন হতে পারে। আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি আমাদের আত্মবিশ্বাস, সাহস, শক্তি, মনোবল, দৃঢ়তা, যা আমাদেরকে আমাদের জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কিন্ত যতক্ষণ না আমরা আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম না হই, ততক্ষন পর্যন্ত আমাদের ব্রেইন শুধুমাত্র আমাদের শিক্ষা, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, আমাদের পারিপার্শ্বিকতা, সব কিছু মিলিয়ে একটা সরল ডিসিশন নেয় এবং সেই ভাবেই আমরা সাধারনত চলতে থাকি জীবনের পথে, যাকে সহজ বাংলায় বলে, "গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো"। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই, বেশীরভাগ মানুষই নিজের পরিপূর্ণ বেক্তিত্ত, ক্ষমতা, সাহস, মনোবল, এবং শক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারনা রাখে না। আমাদের ব্রেইন প্রতিমুহূর্তে লক্ষাধিক ফাংশন করছে, অথচ আমরা সচেতন ভাবে সেই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে খেয়ালও রাখি না বা সেই মহা শক্তিশালী কম্পিউটার প্রোগ্রামিঙকে আমাদের নিজেদের এবং অন্নের কাজে লাগাতে পারি না।
পবিত্র কুরআনে আল্লহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন যে, আমরা মানুষ হলাম সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সবচাইতে সন্মানিত, সবচাইতে পাওয়ারফুল। কিন্ত কিভাবে ??! শক্তির দিক থেকে মানুষের চাইতে বহুগুন শক্তিশালী প্রাণী যেমন হাতি, বাঘ, সিংহ এরকম অনেক আছে, কাজেই আমরা শক্তির হিসেবে শ্রেষ্ঠ না। দৃষ্টিশক্তির বিচারে একটা ঈগল পাখি মানুষের চাইতে বহুগুন বেশি শক্তিশালী দৃষ্টির অধিকারী, সুউচ্চ আকাশ থেকে সে পানির নিচের মাছ দেখে টার্গেট করে ডাইভ দেয়, অথচ এই তুলনায় মানুষের দৃষ্টিশক্তি সেরকম পাওয়ারফুল না। ঘ্রান শক্তির বিচারে একটা পিচ্চি পিপড়াও আমাদের চাইতে বহুগুন বেশী অগ্রসর। পার্সোনাল কমিউনিকেশন এর দিক থেকে মৌমাছি মানুষের চাইতে বহুগুন বেশী এডভান্সড টেকনোলোজি ব্যাবহার করে। বহুদূর থেকে মৌচাকে মধুর খবর তাদের বাহিনীর কাছে সিগন্যাল পাঠায়, অথচ মানুষের এরকম কোন ক্ষমতা নেই। এরকম বহু দিক বিচার করলে মানুষ কোনভাবেই শ্রেষ্ঠ হতে পারে না। তাহলে কিসের কারনে আমরা মানুষেরাই বস ? তার কারন হল, এত সব ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই সমস্ত সৃষ্টি তাদের মহামহিম স্রস্টার সাথে এই পৃথিবীতে বসে সরসরি যোগাযোগ করতে পারে না। তাদের রুহের মাঝে সেই পরিমান আধ্যাত্মিক শক্তি, জ্ঞান, প্রজ্ঞা দেয়া হয় নি, যা দেয়া হয়েছে মানুষকে। মানুষ নিজেদের সেই অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক শক্তি ব্যাবহার করে মহান স্রস্টার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। যেহেতু এই পৃথিবীতে মানুষ হল মহান স্রস্টার খলিফা বা প্রতিনিধি, কাজেই মানুষকে অবশ্যই স্রস্টার সাথে সৃষ্টি পরিচালনার ক্ষেত্রে যোগাযোগ করতে হবে। আর সেই যোগাযোগের মাধ্যম হল মানুষের সুপার পাওয়ারফুল রুহ। এই রুহ আমাদের মহাবিশ্বের সমস্ত বাধা, টানকে উপেক্ষা করে মুহূর্তের মাঝে পারি দিতে সক্ষম বিলিয়ন ট্রিলিয়ন মাইল পথ, যদি আমরা সেটাকে সঠিক ভাবে গাইড এবং কন্ট্রোল করতে পারি। মেডিটেশন বা ধ্যান হল সেই প্রসেস, যার মাধ্যমে আমাদের দেহের কর্মকাণ্ডকে কমিয়ে এনে মনের প্রভাবকে বাড়িয়ে তোলা। আর নিয়মিত প্র্যাকটিস এর মাধ্যমে এবং স্রস্টার দেখানো পথে সঠিক ভাবে অনুশীলন করলে একসময় রুহ দেহের সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে নিজের আসল স্পীডে ছুটতে পারে, পারি দিতে পারে মহাকাশ, গ্যালাক্সি পেড়িয়ে, মহামহিম স্রস্টার নুরের ঝলকের দিকে অনন্ত রহস্যময় আলোর পথ। এজন্য আমাদেরকে জানতে হবে মন নিয়ন্ত্রনের কৌশল ।
Meditation is like a Hyper Dive to the search of lightness to enlighten our Soul, Increase our Spirit, Understanding the meaning of Dedication for the Creations of our Great Lord and... to be a Friend of Almighty Creator... to use HIS Immense Power.... to feel the Infinity.
মানুশের মন - এই ব্যাপক বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মাঝে সবচাইতে অদ্ভুত, সবচাইতে শক্তিশালী, সবচাইতে নিখুত এই সৃষ্টি, যেটাকে মহামহিম স্রস্টা অনেক অনেক আদর, যত্ন, মায়া আর বৈচিত্র্য নিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তার সুপ্রিম সৃষ্টি আদমের জন্য। মানব মনের ক্ষমতা এই আসমান এবং জমিনের মাঝে সবচাইতে বেশী, এটা আমরা নিজেরাই জানি না অনেক সময়। আমাদের (আদমের) জন্য এই সমগ্র আসমান, জমিন এবং এর বাইরের, ভিতরের সব কিছুকে মহান স্রস্টা সৃষ্টি করেছেন, আমাদেরকে দিয়েছেন এগুলোকে নিয়ন্ত্রন করে আমাদের কাজে লাগানোর জ্ঞান, ক্ষমতা। আর আমাদের এই সব চাওয়া শুধুমাত্র তখনি পাওয়াতে পরিনত হয়, যখন আমরা মানসিকভাবে কোন কিছুকে সত্যিকার ভাবেই করতে বা পেতে চাই। আমাদের অতি শক্তিশালী মানব মন আমাদের চাওয়া, সপ্ন, আশা গুলোকে একটা ভার্চুয়াল ইমেজ হিসেবে আমাদের ব্রেইনে সেভ করে এবং আমাদের সব কাজ কর্মকে সেই ইমেজ বা সপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রোগ্রামিং করে, ফলে আমরা আমাদের অবচেতন মনের সেই সপ্নের প্রোগ্রাম অনুযায়ী আমাদের বাস্তব জীবনে কাজ করতে শুরু করি। আর এভাবেই রচিত হয়, হচ্ছে, হবে কাল, কালান্তরব্যাপী সভ্যতা - যার সব কিছুই মহামহিম সৃষ্টিকর্তার সুপার প্রোগ্রামিং এর আওতাভুক্ত। কাজেই আমরা নিজেরাই ঠিক করতে পারি আমাদের কাজ, সাফল্য, সপ্ন, ইচ্ছা, সাহস, বুদ্ধি, জ্ঞান, সম্পদ ... সবকিছুই ... যদি আমরা প্রথমেই আমাদের ব্রেইন এর প্রোগ্রামিং কে সঠিক ভাবে সেট করে নেই পারফেক্ট লাইনে। এজন্য দরকার মন নিয়ন্ত্রনের কৌশল জানা। জানতে হতে কিভাবে অবাধ্য, অবুঝ, আত্মবিশ্বাসহীন মন খুজে নিতে পারে নিখুত লক্ষ্য, হাটতে পারে সাফল্লের আলোকোজ্জ্বল পথে, এই পৃথিবীর সাফল্য শেষে আরেক জগতের অনন্ত মহাসাফল্লের দিকে।
আমাদের মন বা ব্রেইন বা রুহ বা আত্মা বা এগুলোর সমষ্টি এবং এর গতিপ্রকৃতিকে যখন আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি, তখন আমাদের চেতনা প্রশান্ত চিত্তে মহাচেতনার সাথে লিন হতে পারে। আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি আমাদের আত্মবিশ্বাস, সাহস, শক্তি, মনোবল, দৃঢ়তা, যা আমাদেরকে আমাদের জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কিন্ত যতক্ষণ না আমরা আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম না হই, ততক্ষন পর্যন্ত আমাদের ব্রেইন শুধুমাত্র আমাদের শিক্ষা, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, আমাদের পারিপার্শ্বিকতা, সব কিছু মিলিয়ে একটা সরল ডিসিশন নেয় এবং সেই ভাবেই আমরা সাধারনত চলতে থাকি জীবনের পথে, যাকে সহজ বাংলায় বলে, "গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো"। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই, বেশীরভাগ মানুষই নিজের পরিপূর্ণ বেক্তিত্ত, ক্ষমতা, সাহস, মনোবল, এবং শক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারনা রাখে না। আমাদের ব্রেইন প্রতিমুহূর্তে লক্ষাধিক ফাংশন করছে, অথচ আমরা সচেতন ভাবে সেই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে খেয়ালও রাখি না বা সেই মহা শক্তিশালী কম্পিউটার প্রোগ্রামিঙকে আমাদের নিজেদের এবং অন্নের কাজে লাগাতে পারি না।
পবিত্র কুরআনে আল্লহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন যে, আমরা মানুষ হলাম সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সবচাইতে সন্মানিত, সবচাইতে পাওয়ারফুল। কিন্ত কিভাবে ??! শক্তির দিক থেকে মানুষের চাইতে বহুগুন শক্তিশালী প্রাণী যেমন হাতি, বাঘ, সিংহ এরকম অনেক আছে, কাজেই আমরা শক্তির হিসেবে শ্রেষ্ঠ না। দৃষ্টিশক্তির বিচারে একটা ঈগল পাখি মানুষের চাইতে বহুগুন বেশি শক্তিশালী দৃষ্টির অধিকারী, সুউচ্চ আকাশ থেকে সে পানির নিচের মাছ দেখে টার্গেট করে ডাইভ দেয়, অথচ এই তুলনায় মানুষের দৃষ্টিশক্তি সেরকম পাওয়ারফুল না। ঘ্রান শক্তির বিচারে একটা পিচ্চি পিপড়াও আমাদের চাইতে বহুগুন বেশী অগ্রসর। পার্সোনাল কমিউনিকেশন এর দিক থেকে মৌমাছি মানুষের চাইতে বহুগুন বেশী এডভান্সড টেকনোলোজি ব্যাবহার করে। বহুদূর থেকে মৌচাকে মধুর খবর তাদের বাহিনীর কাছে সিগন্যাল পাঠায়, অথচ মানুষের এরকম কোন ক্ষমতা নেই। এরকম বহু দিক বিচার করলে মানুষ কোনভাবেই শ্রেষ্ঠ হতে পারে না। তাহলে কিসের কারনে আমরা মানুষেরাই বস ? তার কারন হল, এত সব ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই সমস্ত সৃষ্টি তাদের মহামহিম স্রস্টার সাথে এই পৃথিবীতে বসে সরসরি যোগাযোগ করতে পারে না। তাদের রুহের মাঝে সেই পরিমান আধ্যাত্মিক শক্তি, জ্ঞান, প্রজ্ঞা দেয়া হয় নি, যা দেয়া হয়েছে মানুষকে। মানুষ নিজেদের সেই অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক শক্তি ব্যাবহার করে মহান স্রস্টার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। যেহেতু এই পৃথিবীতে মানুষ হল মহান স্রস্টার খলিফা বা প্রতিনিধি, কাজেই মানুষকে অবশ্যই স্রস্টার সাথে সৃষ্টি পরিচালনার ক্ষেত্রে যোগাযোগ করতে হবে। আর সেই যোগাযোগের মাধ্যম হল মানুষের সুপার পাওয়ারফুল রুহ। এই রুহ আমাদের মহাবিশ্বের সমস্ত বাধা, টানকে উপেক্ষা করে মুহূর্তের মাঝে পারি দিতে সক্ষম বিলিয়ন ট্রিলিয়ন মাইল পথ, যদি আমরা সেটাকে সঠিক ভাবে গাইড এবং কন্ট্রোল করতে পারি। মেডিটেশন বা ধ্যান হল সেই প্রসেস, যার মাধ্যমে আমাদের দেহের কর্মকাণ্ডকে কমিয়ে এনে মনের প্রভাবকে বাড়িয়ে তোলা। আর নিয়মিত প্র্যাকটিস এর মাধ্যমে এবং স্রস্টার দেখানো পথে সঠিক ভাবে অনুশীলন করলে একসময় রুহ দেহের সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে নিজের আসল স্পীডে ছুটতে পারে, পারি দিতে পারে মহাকাশ, গ্যালাক্সি পেড়িয়ে, মহামহিম স্রস্টার নুরের ঝলকের দিকে অনন্ত রহস্যময় আলোর পথ। এজন্য আমাদেরকে জানতে হবে মন নিয়ন্ত্রনের কৌশল ।
আমাদের মন বা ব্রেইন বা রুহ বা আত্মা বা এগুলোর সমষ্টি এবং এর গতিপ্রকৃতিকে যখন আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি, তখন আমাদের চেতনা প্রশান্ত চিত্তে মহাচেতনার সাথে লিন হতে পারে। আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি আমাদের আত্মবিশ্বাস, সাহস, শক্তি, মনোবল, দৃঢ়তা, যা আমাদেরকে আমাদের জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কিন্ত যতক্ষণ না আমরা আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম না হই, ততক্ষন পর্যন্ত আমাদের ব্রেইন শুধুমাত্র আমাদের শিক্ষা, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, আমাদের পারিপার্শ্বিকতা, সব কিছু মিলিয়ে একটা সরল ডিসিশন নেয় এবং সেই ভাবেই আমরা সাধারনত চলতে থাকি জীবনের পথে, যাকে সহজ বাংলায় বলে, "গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো"। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই, বেশীরভাগ মানুষই নিজের পরিপূর্ণ বেক্তিত্ত, ক্ষমতা, সাহস, মনোবল, এবং শক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারনা রাখে না। আমাদের ব্রেইন প্রতিমুহূর্তে লক্ষাধিক ফাংশন করছে, অথচ আমরা সচেতন ভাবে সেই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে খেয়ালও রাখি না বা সেই মহা শক্তিশালী কম্পিউটার প্রোগ্রামিঙকে আমাদের নিজেদের এবং অন্নের কাজে লাগাতে পারি না।
পবিত্র কুরআনে আল্লহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন যে, আমরা মানুষ হলাম সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সবচাইতে সন্মানিত, সবচাইতে পাওয়ারফুল। কিন্ত কিভাবে ??! শক্তির দিক থেকে মানুষের চাইতে বহুগুন শক্তিশালী প্রাণী যেমন হাতি, বাঘ, সিংহ এরকম অনেক আছে, কাজেই আমরা শক্তির হিসেবে শ্রেষ্ঠ না। দৃষ্টিশক্তির বিচারে একটা ঈগল পাখি মানুষের চাইতে বহুগুন বেশি শক্তিশালী দৃষ্টির অধিকারী, সুউচ্চ আকাশ থেকে সে পানির নিচের মাছ দেখে টার্গেট করে ডাইভ দেয়, অথচ এই তুলনায় মানুষের দৃষ্টিশক্তি সেরকম পাওয়ারফুল না। ঘ্রান শক্তির বিচারে একটা পিচ্চি পিপড়াও আমাদের চাইতে বহুগুন বেশী অগ্রসর। পার্সোনাল কমিউনিকেশন এর দিক থেকে মৌমাছি মানুষের চাইতে বহুগুন বেশী এডভান্সড টেকনোলোজি ব্যাবহার করে। বহুদূর থেকে মৌচাকে মধুর খবর তাদের বাহিনীর কাছে সিগন্যাল পাঠায়, অথচ মানুষের এরকম কোন ক্ষমতা নেই। এরকম বহু দিক বিচার করলে মানুষ কোনভাবেই শ্রেষ্ঠ হতে পারে না। তাহলে কিসের কারনে আমরা মানুষেরাই বস ? তার কারন হল, এত সব ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই সমস্ত সৃষ্টি তাদের মহামহিম স্রস্টার সাথে এই পৃথিবীতে বসে সরসরি যোগাযোগ করতে পারে না। তাদের রুহের মাঝে সেই পরিমান আধ্যাত্মিক শক্তি, জ্ঞান, প্রজ্ঞা দেয়া হয় নি, যা দেয়া হয়েছে মানুষকে। মানুষ নিজেদের সেই অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক শক্তি ব্যাবহার করে মহান স্রস্টার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। যেহেতু এই পৃথিবীতে মানুষ হল মহান স্রস্টার খলিফা বা প্রতিনিধি, কাজেই মানুষকে অবশ্যই স্রস্টার সাথে সৃষ্টি পরিচালনার ক্ষেত্রে যোগাযোগ করতে হবে। আর সেই যোগাযোগের মাধ্যম হল মানুষের সুপার পাওয়ারফুল রুহ। এই রুহ আমাদের মহাবিশ্বের সমস্ত বাধা, টানকে উপেক্ষা করে মুহূর্তের মাঝে পারি দিতে সক্ষম বিলিয়ন ট্রিলিয়ন মাইল পথ, যদি আমরা সেটাকে সঠিক ভাবে গাইড এবং কন্ট্রোল করতে পারি। মেডিটেশন বা ধ্যান হল সেই প্রসেস, যার মাধ্যমে আমাদের দেহের কর্মকাণ্ডকে কমিয়ে এনে মনের প্রভাবকে বাড়িয়ে তোলা। আর নিয়মিত প্র্যাকটিস এর মাধ্যমে এবং স্রস্টার দেখানো পথে সঠিক ভাবে অনুশীলন করলে একসময় রুহ দেহের সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে নিজের আসল স্পীডে ছুটতে পারে, পারি দিতে পারে মহাকাশ, গ্যালাক্সি পেড়িয়ে, মহামহিম স্রস্টার নুরের ঝলকের দিকে অনন্ত রহস্যময় আলোর পথ। এজন্য আমাদেরকে জানতে হবে মন নিয়ন্ত্রনের কৌশল ।

আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলকে তার দেয়া অসিম ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা দান করুন এবং জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
ReplyDeleteআমিন। এবং তিনি আমাদেরকে তাকে যেরকম ভয়, সন্মান করা উচিত, সেরকম ভয় ও সন্মান করার তৌফিক দান করুন। তাকে ভয় করাই মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাচিয়ে জান্নাতের দিকে নিয়ে জেতে পারে।
Delete